গাজীপুরের শিশু ধর্ষণকারী ওমর ফারুককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১

খেলার মাঠ

 

মাহমুদুল হাসানঃ
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকার চার বছরের শিশু ধর্ষণকারী ওমর ফারুক মিদুল(১৫) কে রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১
গত ২৩ এপ্রিল ২০১৯ ইং তারিখে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন গোপালপুর, সাতরং, ওয়াবদা গেইট সংলগ্ন নানা গিয়াস উদ্দিনের বাড়ির আসামী মোঃ মিদুল এর বসতঘরে ০৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনাটি দেশের বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হয় এবং সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করেন। যার নং-৬৪, তারিখ- ২৪/০৪/২০১৯, ধারা- ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(৪)(খ)।

বর্ণিত ঘটনার সাথে জড়িতকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব-১ অতি দ্রুততার সাথে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল গত ১৫ মে ২০১৯ ইং তারিখ আনুমানিক রাত ২২৩০ ঘটিকায় রাজধানাীর দক্ষিণখান থানাধীন রেলগেইট সংলগ্ন আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বর্ণিত ধর্ষণের চেষ্টাকারী মোঃ ওমর ফারুক মিদুল (১৫), পিতা- মোঃ নুরুল ইসলাম নুরু, মাতা- মোসাঃ মুক্তা, সাং- আব্দুল্লাহপুর, সিকদারবাড়ি, রেলগেইট সংলগ্ন, থানা- দক্ষিণখান, ডিএমপি, ঢাকা, বর্তমান ঠিকানা- সাং- গোপালপুর, সাতরং, ওয়বদা গেইট সংলগ্ন, গিয়াস উদ্দিনের বাড়ি, থানা- টঙ্গী পূর্ব, জিএমপি, গাজীপুর’কে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামী বর্ণিত ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। সে গ্রেফতার এড়ানোর জন্য বর্ণিত এলাকায় আত্মগোপন করেছিল বলে জানায়।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে নিশাত ল্যাবরেটরী স্কুল, টঙ্গীতে অষ্টম শ্রেনীতে লেখাপড়া করে। ঘটনার দিন অর্থাৎ গত ২৩ এপ্রিল ২০১৯ ইং তারিখ ধৃত আসামী মোঃ ওমর ফারুক মিদুল (১৫) সকাল অনুমান ১০.৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিম চার বছরের শিশু’কে চকলেট খাওয়ানোর কথা বলে তার নিজ বসতঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে ভিকটিম তার মুখ হতে কৌশলে আসামীর হাত সরিয়ে চিৎকার করলে ভিকটিমের চাচা মোঃ শহিদুল ইসলাম মিলন (২৬) আসামীর বসতঘরে দরজায় ধাক্কাধাক্কা করিলে আসামী দরজা খুলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের বাবা মোঃ রফিকুল ইসলাম মিঠুন (৩০) মেয়ের শারিরীক অবস্থা খারাপ দেখে নিকটস্থ টঙ্গী সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা করায়।

উক্ত ধর্ষণের বিষয়ে ভিকটিম’কে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে জানায় যে, ধৃত আসামী ইতিপূর্বেও অনেকবার তাকে বিভিন্ন ধরণের খেলনার লোভ দেখিয়ে তার স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়। ভিকটিম তার মাকে জানায় যে, মা মিদুল ভাইয়া আমাকে খেলার কথা বলে তার ঘরে নিয়ে গিয়ে তার শরীরে বিভিন্ন গোপন স্থানে হাত দিয়েছে। উপরোক্ত ঘটনা সম্পর্কে ধৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে ধৃত আসামী মোঃ ওমর ফারুক মিদুল তার সত্যতা স্বীকার করে। উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *